পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীর্ঘদিন মারীদ্বী শান মুবারক গ্রহণ করার পর ছিহ্হাতী শান মুবারক প্রকাশ করে পবিত্র মসজিদে নববী শরীফে তাশরীফ মুবারক আনেন এবং নামাযের ইমামতি করেন এই অপার আনন্দে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুসারে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্স্নাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র খিদমত মুবারকে হাদিয়া পেশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

বর্ণিত রয়েছে যে, খুশি মুবারক প্রকাশ করে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সাত হাজার দীনার, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পাঁচ হাজার দীনার, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি দশ হাজার দীনার, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তিন হাজার দীনার, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একশত উট ও একশত ঘোড়া মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় হাদিয়া করতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আর এ কারণেই পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালন করা হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

মূলকথা হলো- পবিত্র ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ অর্থাৎ পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া শরীফ। যা কায়িনাতবাসী সকলের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশের দিন। এ উপলক্ষে সকলের জন্য র্কতব্য হচ্ছে- উক্ত মুবারক দিনে খুশি প্রকাশ করে সাধ্যমতো হাদিয়া পেশ করা, গোসল করা, ভালো খাওয়া, বেশি বেশি পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পাঠ করা ও পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা। এর সাথে সাথে দান-ছদক্বা করা। আর বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম ও অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক দিনটি পালনের সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ মুবারক দিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

কেউ কেউ ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ উদযাপন করাকে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে আখ্যায়িত করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! যা সম্মানিত শরীয়ত উনার বিরোধী ও কুফরী। বরং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণে ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ উপলক্ষে সাধ্যমত দান-খয়রাত করা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বেশি বেশি ছলাত-সালাম মুবারক, পবিত্র মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা অত্যন্ত ফযীলত ও কল্যাণ হাছিলের কারণ। {দলীল: সমূহ সীরাতগ্রন্থ}

পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার মহাসম্মানিত সুন্নতী আমলসমূহঃ-

ক) পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ তালাশ করা। অর্থাৎ এ মাসের শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) কবে সে ফিকিরে থাকা।

খ) এ দিন সকালে গোসল করা।

গ) পরিবারের সকলকে একত্রিত করে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা ও বেশি বেশি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা।

ঘ) পরিবারের সকলের খোঁজ-খবর নেয়া।

ঙ) রুটি, গোশত ও সিরকা দিয়ে নাস্তা করা।

চ) ফালইয়াফরহূ শরীফ অর্থাৎ খুশি মুবারক প্রকাশ করা।

ছ) হাক্বীক্বী শুকরিয়া আদায় করা।

জ) সাধ্যমতো হাদিয়া মুবারক পেশ করা।

ঝ) গরিব-মিসকিনদেরকে দান-ছদক্বাহ করা।

ঞ) এ মাসে চিকিৎসা করা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা। ইত্যাদি

কাজেই, সমস্ত মুসলমানদের উচিত পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক সমূহ সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী পালন করা। আর পবিত্র সুন্নত মুবারক যারা পালন করবেন, উনাদের ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

مَنْ حَفِظَ سُنَّتِـىْ اَكْرَمَهُ اللهُ تَعَالـٰى بِاَرْبَعِ خِصَالٍ اَلْـمَحَبَّةُ فِـىْ قُلُوْبِ الْبَرَرَةِ وَالْـهَيْبَةُ فِـىْ قُلُوْبِ الْفَجَرَةِ وَالسَّعَةُ فِـى الرِّزْقِ وَالثِّقَةُ فِـى الدِّيْنِ

অর্থ: “যে ব্যক্তি আমার সম্মানিত সুন্নত মুবারক হিফাযত করবেন, আঁকড়িয়ে ধরবেন, সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার উপর আমল করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ৪টি বৈশিষ্ট্য মুবারক দ্বারা সম্মানিত করবেন। সুবহানাল্লাহ!

আর তা হচ্ছে-

১. যিনি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করবেন উনার প্রতি নেককারদের অন্তরে মুহব্বত পয়দা করে দিবেন।

২. যিনি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করবেন উনার ব্যাপারে বদকারদের, ফাসেক-ফুজ্জারদের অন্তরে ভীতি সৃষ্টি করে দিবেন।

৩. উনাকে রিযিক্বে প্রাচুর্যতা দান করবেন। উনাকে রিযিকের জন্য কোন চিন্তা করতে হবে না।

৪. উনাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলামে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে কবুল করবেন।” তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার হুজ্জত, দলীল হয়ে যাবেন। সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে রূহুল বায়ান, তাফসীরে হাক্কী)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বায় পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ হাক্বীক্বীভাবে পালন করার এবং এ দিবসের রহমত-বরকত, নেয়ামত মুবারক লাভ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top