অনিষ্টতা থেকে হিফাযতের জন্য খাবারের পাত্র ঢেকে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাবারের পাত্র ঢেকে রাখার মহাসম্মানিত আদেশ মুবারক দিয়েছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে –

غَطُّوا الإِنَاءَ وَأَوْكُوا السِّقَاءَ فَإِنَّ فِى السَّنَةِ لَيْلَةً يَنْزِلُ فِيهَا وَبَاءٌ لاَ يَمُرُّ بِإِنَاءٍ لَيْسَ عَلَيْهِ غِطَاءٌ أَوْ سِقَاءٍ لَيْسَ عَلَيْهِ وِكَاءٌ إِلاَّ نَزَلَ فِيهِ مِنْ ذَلِكَ الْوَبَاءِ.

অর্থ: “তোমরা পাত্র ঢেকে রাখো এবং পান পাত্রের মুখ বন্ধ করে রাখো। কেননা বছরে এমন একটি রাত রয়েছে, যাতে বিভিন্ন প্রকার রেসূ ও মহামারি অবতরণ করে। সেই রেসূ বা মহামারি যখনই কোন ঢাকনা বিহীন পাত্রের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে, তখনই তাতে পতিত হয়।” (মুসলিম শরীফ শরীফ, অধ্যায়ঃ কিতাবুল আশরিবাহ, মিশকাত শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৪২৯৮)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তিনি পাত্র ঢাকা বা পাত্রের মুখ বন্ধ করার সময় “বিসমিল্লাহ্” বলার মহাসম্মানিত আদেশ মুবারক দিয়েছেন। তিনি কলসীতে (বড় পান পাত্রে) সরাসরি মুখ লাগিয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন। পাত্রে শ্বাস ফেলতে এবং তাতে ফুঁ দিতে এবং ভাঙ্গা পান পাত্রে এবং ছিদ্র বিশিষ্ট পাত্রের ছিদ্র হতে পান করতেও তিনি নিষেধ করেছেন।

তিরমিযী শরীফে বর্ণিত হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “তোমরা উটের ন্যায় এক নিঃশ্বাসে পানি পান করোনা; বরং তোমরা দুই বা তিন নিঃশ্বাসে পান কর। আর যখন তোমরা পান করবে, তখন বিসমিল্লাহ্ বলে পান করবে এবং পান করা শেষে আলহামদুলিল্লাহ্ বলবে।”

থালা-বাসন ইত্যাদি ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত রয়েছে-

قَالَ جَاءَ أَبُو حُمَيْدٍ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ مِنَ النَّقِيعِ بِإِنَاءٍ مِنْ لَبَنٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَّا خَمَّرْتَهُ وَلَوْ أنْ تعرِضَ عليهِ عوداً

অর্থ: তিনি বলেন, একদিন হযরত আবূ হুমাইদ নামক আনসারী এক ব্যক্তি তিনি নাকী’ নামক এক জায়গা হতে এক পেয়ালা দুধ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে নিয়ে এলেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি এটাকে ঢেকে আননি কেন? আর কিছু না হোক অন্তত একটি কাঠি তার উপর আড়াআড়িভাবে রেখে দিতে। (বুখারী শরীফ ৫৬০৫, মুসলিম শরীফ (২০১০)-৯৩, ৯৪, ৯৫; মুসনাদে আহমাদ শরীফ ১৪১৩৭, আবূ দাঊদ শরীফ ৩৭৩৪, ছহীহুল জামি‘ ২৬৫১, আল জামি‘উস্ ছগীর ৪৪১৬, সিলসিলাতুস্ ছহীহাহ্ ৩০৭৬, ইরওয়া ৩৯, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৩৮৬৫, দারিমী শরীফ ২১৩১, ছহীহ ইবনু হিব্বান ১২৭০, শু‘আবুল ঈমান শরীফ ৬০৬০)

অর্থাৎ খাবারের পাত্রের মুখ ঢেকে রাখা এত-ই গুরুত্বপূর্ণ যে কমপক্ষে এক খন্ড কাঠি দিয়ে হলেও পাত্রের উপর রেখে দিতে হবে।

সূর্যাস্তের সময় অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর পর শিশুদের ঘরের বাহিরে বের হতে না দেওয়া:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لَا تُرْسِلُوا فَوَاشِيكُمْ وَصِبْيَانَكُمْ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ حَتَّى تَذْهَبَ فَحْمَةُ الْعِشَاءِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَبْعَثُ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ حَتَّى تذْهب فَحْمَة الْعشَاء

অর্থ: সূর্যাস্তের পর রাতের কিছু অংশ অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের জানোয়ার ও শিশুদেরকে (বাইরে) ছেড়ে দিয়ো না। কেননা সূর্যাস্তের পর সান্ধ্য আভা বিলীন হওয়া পর্যন্ত শয়তান ছড়িয়ে পড়ে। (মুসলিম শরীফ (২০১৩)-৯৮, মুসনাদে আহমাদ শরীফ ১৪৩৪২, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১০৬৪৪, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ১৩৪৫, মুসনাদ আবূ ইয়া‘লা ১৭৭২, মুসনাদে আহমাদ শরীফ ১৪৩৪২, আবূ দাঊদ শরীফ ২৬০৪, সহীহুল জামি‘ ৭২৭৮, আল জামি‘উছ্ ছগীর ১৩২৩৪, ছহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩১২৩, সিলসিলাতুছ্ ছহীহাহ্ ২৯৭৪)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top