05 November, 2026
•
১ মিনিট পাঠ
•
৪৯ বার পঠিত
দুগ্ধ সম্পর্কের (রেদ্বাআত) কারণে চাচাতো বোনের সাথে বিবাহের শরয়ী বিধান"
প্রশ্নকারীর প্রশ্ন ও প্রেক্ষাপট:
"হাফিজ মাওলানা মুহম্মদ মাছুম বিল্লাহ- (বি-বাড়িয়া)
এক ছেলে তার আপন চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু ছোটবেলায় ছেলেটি তার ওই চাচীর (মেয়ের মায়ের) দুধ পান করেছিল।
১. এখন তাদের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া শরিয়ত অনুযায়ী জায়েজ হবে কি?
২. হানাফি মাজহাব মতে দুগ্ধ সম্পর্ক (রেজাত) সাব্যস্ত হতে দুধ পানের নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ বা চুমুকের শর্ত আছে কি, নাকি সামান্য পান করলেই বিয়ে হারাম হয়ে যায়?
দয়া করে সঠিক সমাধান জানিয়ে উপকৃত করবেন।"
এক ছেলে তার আপন চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু ছোটবেলায় ছেলেটি তার ওই চাচীর (মেয়ের মায়ের) দুধ পান করেছিল।
১. এখন তাদের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া শরিয়ত অনুযায়ী জায়েজ হবে কি?
২. হানাফি মাজহাব মতে দুগ্ধ সম্পর্ক (রেজাত) সাব্যস্ত হতে দুধ পানের নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ বা চুমুকের শর্ত আছে কি, নাকি সামান্য পান করলেই বিয়ে হারাম হয়ে যায়?
দয়া করে সঠিক সমাধান জানিয়ে উপকৃত করবেন।"
বিস্তারিত আলোচনা ও শরয়ী তাহকীক:
দুগ্ধ সম্পর্ক বা রেজাতের কারণে ওই ছেলে এবং তার আপন চাচাতো বোনের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া শরিয়ত অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম এবং নাজায়েজ।
আপনার জিজ্ঞাসা দুটির শরয়ী সমাধান নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
১. বিবাহ জায়েজ হবে কি না?
না, তাদের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েজ হবে না।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ ... وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ
"তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে... তোমাদের সেইসব মা, যারা তোমাদের দুধ পান করিয়েছে এবং তোমাদের দুধ-বোনেরা।" (সূরা আন-নিসা: ২৩)।
এ ছাড়া হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ﷺতিনি বলেছেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بِنْتِ حَمْزَةَ: «لاَ تَحِلُّ لِي، يَحْرُمُ مِنَ الرَّضَاعِ مَا يَحْرُمُ مِنَ النَّسَبِ، هِيَ بِنْتُ أَخِي مِنَ الرَّضَاعَةِ»
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, হযরত হামজা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু উনার কন্যার ব্যাপারে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেছেন, "সে আমার জন্য হালাল নয়। বংশগত কারণে (যাদের সাথে বিবাহ) হারাম হয়, দুগ্ধ পানের কারণেও তাদের সাথে (বিবাহ) হারাম হয়ে যায়। সে আমার দুধ-ভাইয়ের মেয়ে।"
(সহীহ বুখারী,শরীফ হাদীস নং ২৬৪৫ / সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪৪৭) ।
যেহেতু ছেলেটি ছোটবেলায় তার আপন চাচীর (চাচাতো বোনের মায়ের) দুধ পান করেছিল, তাই ওই চাচী শরীয়তের দৃষ্টিতে ছেলেটির "দুধ-মা" হয়ে গেছেন。 আর ওই চাচীর গর্ভজাত সকল সন্তান (তা সে দুধ পানের আগের হোক বা পরের) ওই ছেলের "দুধ ভাই-বোন" হিসেবে গণ্য。 ফলশ্রুতিতে, চাচাতো বোনটি এখন তার দুধ-বোন, যার কারণে তাদের পারস্পরিক বিবাহ চিরতরে হারাম।
২. হানাফি মাজহাব মতে দুধ পানের পরিমাণ বা চুমুকের শর্ত
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, দুগ্ধ সম্পর্ক (রেজাত) সাব্যস্ত হওয়ার জন্য দুধ পানের কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ বা চুমুকের সংখ্যা শর্ত নয়।
খুব সামান্য পরিমাণ দুধ—তা মাত্র এক চুমুক বা এক ফোঁটা হোক না কেন যদি শিশুর পেটে পৌঁছায়, তাতেই দুগ্ধ সম্পর্ক প্রমাণিত হয়ে যায় এবং বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা (হুরমত) কার্যকর হয়। হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ সমূহে (যেমন: হেদায়া, ফাতোয়ায়ে শামী) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিমাণের কম-বেশি হওয়ার দ্বারা হুকুমের কোনো পরিবর্তন হয় না।
ফাতোয়ায়ে শামী (রদ্দুল মুহতার) থেকে:
(قَلِيلُهُ وَكَثِيرُهُ سَوَاءٌ) فِي ثُبُوتِ الْحُرْمَةِ إذَا وَصَلَ إلَى جَوْفِهِ قَصْدًا أَوْ خَطَأً أَوْ لَعِبًا
(الدر المختار مع رد المحتار، كتاب الرضاع، ۳/ ২১১)
অর্থ: "(দুধ পানের পরিমাণ) কম হোক কিংবা বেশি হোক—তাতে হুরমত (বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা) সাব্যস্ত হওয়ার হুকুম সমান; যখন তা শিশুর পেটে পৌঁছাবে, তা ইচ্ছাকৃত হোক, ভুলবশত হোক কিংবা খেলার ছলে হোক।"
আল-হিদায়া থেকে:
قَلِيلُ الرَّضَاعِ وَكَثِيرُهُ سَوَاءٌ إِذَا حَصَلَ فِي مُدَّةِ الرَّضَاعِ تَعَلَّقَتْ بِهِ الْحُرْمَةُ
(الهداية شرح بداية المبتدي، كتاب الرضاع، ২/ ৩৫১)
অর্থ: "দুধ পানের পরিমাণ কম হোক বা বেশি হোক—উভয়টি সমান। যখন তা দুধ পানের নির্দিষ্ট মেয়াদের (শিশুর ২ বছরের) মধ্যে ঘটবে, তখন তার দ্বারা হুরমত বা বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে যাবে।"
সামান্যতম দুধ পানের ফলেও রক্ত ও গোশতের ওপর তার প্রভাব পড়ে।